মূল অংশে যান
BDTech টুলস সব টুল

ভ্যাট ক্যালকুলেটর: ১৫% ভ্যাট যোগ বা বাদ দিন

কী হিসাব করবেন

শুধু সংখ্যা লিখুন, যেমন 1000 বা 2500.50।

মূল দাম
৳১,০০০.০০
ভ্যাট
৳১৫০.০০
মোট (ভ্যাটসহ)
৳১,১৫০.০০

১৫% ভ্যাট যোগ করতে দামকে ১.১৫ দিয়ে গুণ করুন: ১,০০০ টাকার পণ্যে ভ্যাট ১৫০ টাকা, মোট ১,১৫০ টাকা। ভ্যাটসহ দাম থেকে মূল দাম বের করতে ১.১৫ দিয়ে ভাগ করুন।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  1. ১ ওপরে বেছে নিন: দামের ওপর ভ্যাট যোগ করবেন, নাকি ভ্যাটসহ দাম থেকে ভ্যাট আলাদা করবেন।
  2. ২ দামের ঘরে টাকার অঙ্ক লিখুন, যেমন 1000।
  3. ৩ ভ্যাটের হার বেছে নিন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ১৫%।
  4. ৪ মূল দাম, ভ্যাট ও মোট দাম সাথে সাথে দেখাবে।

ভ্যাট বা মূসক কী

ভ্যাট (Value Added Tax) বাংলায় মূল্য সংযোজন কর বা মূসক। পণ্য বা সেবা কেনার সময় দামের ওপর যে কর যোগ হয়, সেটাই ভ্যাট। দোকান, রেস্টুরেন্ট বা প্রতিষ্ঠান ক্রেতার কাছ থেকে এই কর নেয় এবং সরকারকে জমা দেয়। বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ অনুযায়ী সাধারণ বা প্রমিত হার ১৫%। কিছু পণ্য ও সেবায় এর চেয়ে কম হার, যেমন ১০%, ৭.৫% বা ৫%, প্রযোজ্য হয়, আর কিছু জিনিস ভ্যাটমুক্ত। কোন জিনিসে কোন হার, তা সময়ে সময়ে বাজেট ও প্রজ্ঞাপনে বদলায়, তাই নিশ্চিত হতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) সর্বশেষ তালিকা দেখে নিন।

দুই রকম হিসাব: ভ্যাট যোগ আর ভ্যাট বাদ

দামের ওপর ভ্যাট যোগ করা

কোটেশন বা ইনভয়েস বানানোর সময় সাধারণত আগে মূল দাম লেখা হয়, তারপর ভ্যাট যোগ হয়। হিসাবটা সহজ: ভ্যাট = দাম × হার ÷ ১০০। যেমন ৮,৫০০ টাকার সেবায় ১৫% ভ্যাট = ১,২৭৫ টাকা, মোট ৯,৭৭৫ টাকা। ১৫% হারে সরাসরি মোট পেতে দামকে ১.১৫ দিয়ে গুণ করলেই হয়।

ভ্যাটসহ দাম থেকে ভ্যাট আলাদা করা

অনেক সময় দোকানের দাম বা বিলে ভ্যাট আগেই ধরা থাকে, আর হিসাব রাখার জন্য জানতে হয় এর মধ্যে ভ্যাট কত। এখানে অনেকে ভুল করে মোট দামের ১৫% বাদ দেন, যা ঠিক নয়। সঠিক নিয়ম হলো মোট দামকে (১ + হার ÷ ১০০) দিয়ে ভাগ করা। ১,১৫০ টাকা ভ্যাটসহ দাম হলে মূল দাম ১,১৫০ ÷ ১.১৫ = ১,০০০ টাকা এবং ভ্যাট ১৫০ টাকা। কিন্তু ১,১৫০ টাকার ১৫% বাদ দিলে পাবেন ৯৭৭.৫০ টাকা, যা ভুল। ওপরের ক্যালকুলেটরে "ভ্যাটসহ দাম থেকে বাদ দিন" বেছে নিলে সঠিক হিসাবটাই হবে।

ব্যবসার কাজে খেয়াল রাখুন

ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান বিক্রির সময় মূসক-৬.৩ নামের কর চালানপত্র দেয়, যেখানে মূল দাম, ভ্যাটের হার ও পরিমাণ আলাদা করে লেখা থাকে। আপনার ইনভয়েসেও এই তিনটি আলাদা দেখালে ক্রেতার বুঝতে সুবিধা হয়। এই ক্যালকুলেটর শুধু অঙ্কের হিসাব করে; কোন পণ্যে কোন হার প্রযোজ্য, রিটার্ন জমা বা রেয়াত নেওয়ার মতো বিষয়ে আপনার ভ্যাট পরামর্শক বা NBR-এর নির্দেশনাই চূড়ান্ত।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

বাংলাদেশে ভ্যাটের হার কত?

মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রমিত হার ১৫%। কিছু পণ্য ও সেবায় ১০%, ৭.৫% বা ৫% এর মতো কম হার এবং কিছু ক্ষেত্রে অব্যাহতি আছে। হার বাজেটে বদলাতে পারে, তাই NBR-এর সর্বশেষ তালিকা দেখুন।

১৫% ভ্যাট কীভাবে হিসাব করব?

দামকে ১৫ দিয়ে গুণ করে ১০০ দিয়ে ভাগ করলে ভ্যাট পাবেন। যেমন ২,০০০ টাকায় ভ্যাট ৩০০ টাকা। সরাসরি মোট দাম পেতে দামকে ১.১৫ দিয়ে গুণ করুন: ২,০০০ × ১.১৫ = ২,৩০০ টাকা।

ভ্যাটসহ দাম থেকে মূল দাম কীভাবে বের করব?

ভ্যাটসহ দামকে ১.১৫ দিয়ে ভাগ করুন (১৫% হারে)। যেমন ২,৩০০ ÷ ১.১৫ = ২,০০০ টাকা মূল দাম, বাকি ৩০০ টাকা ভ্যাট। মোট দামের ১৫% বাদ দিলে ভুল হয়।

মূসক আর ভ্যাট কি একই?

হ্যাঁ। মূসক মানে মূল্য সংযোজন কর, ইংরেজিতে Value Added Tax বা VAT। চালানপত্র ও সরকারি কাগজে বাংলায় মূসক লেখা হয়।

মূসক-৬.৩ কী?

মূসক-৬.৩ হলো ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের কর চালানপত্র। বিক্রির সময় এতে পণ্যের মূল্য, ভ্যাটের হার ও ভ্যাটের পরিমাণ আলাদা করে লেখা থাকে।

এই ক্যালকুলেটরে কি সম্পূরক শুল্ক বা অগ্রিম আয়কর ধরা হয়?

না, এটি শুধু ভ্যাটের হিসাব করে। সম্পূরক শুল্ক, উৎসে কর বা অন্য কোনো কর থাকলে সেগুলো আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে।