লোন EMI ক্যালকুলেটর: মাসিক কিস্তি কত হবে
ঋণের পরিমাণ, সুদের হার ও মেয়াদ সংখ্যায় লিখুন (মেয়াদ সর্বোচ্চ ৫০ বছর)।
মাসিক কিস্তি (EMI) ৳১১,১২২.২২ ৬০টি কিস্তি
- মোট সুদ
- ৳১,৬৭,৩৩৩.৪৩
- মোট পরিশোধ (আসল + সুদ)
- ৳৬,৬৭,৩৩৩.৪৩
- মোট পরিশোধে সুদের অংশ
- ২৫%
| বছর | আসল পরিশোধ | সুদ | বাকি ঋণ |
|---|---|---|---|
৫ লাখ টাকা ঋণ ১২% সুদে ৫ বছরের জন্য নিলে মাসিক কিস্তি প্রায় ১১,১২২ টাকা, আর ৫ বছরে মোট সুদ দিতে হয় প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা (ক্রমহ্রাসমান স্থিতি পদ্ধতিতে)।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- ১ ঋণের পরিমাণ টাকায় লিখুন, যেমন 500000।
- ২ ব্যাংক যে বার্ষিক সুদের হার দিচ্ছে তা লিখুন, যেমন 12।
- ৩ কত বছরে শোধ করবেন তা লিখুন। ৬ মাসের জন্য 0.5 লিখুন।
- ৪ মাসিক কিস্তি, মোট সুদ ও মোট পরিশোধ সাথে সাথে দেখাবে। চাইলে বছরভিত্তিক হিসাবও খুলে দেখুন।
EMI কী এবং কীভাবে হিসাব হয়
EMI (Equated Monthly Instalment) হলো ঋণ শোধের জন্য প্রতি মাসে দেওয়া সমান কিস্তি। প্রতিটি কিস্তিতে দুটি অংশ থাকে: সুদ আর আসলের একটি অংশ। শুরুর দিকে বাকি ঋণ বেশি থাকে, তাই কিস্তির বড় অংশ যায় সুদে। সময়ের সাথে বাকি ঋণ কমে, সুদের অংশ কমে এবং আসল পরিশোধের অংশ বাড়ে। কিস্তির অঙ্ক কিন্তু পুরো মেয়াদে একই থাকে। ব্যাংকগুলো সাধারণত এই ক্রমহ্রাসমান স্থিতি (reducing balance) পদ্ধতিতেই EMI হিসাব করে।
সূত্রটি হলো: EMI = P × r × (1 + r)n ÷ ((1 + r)n − 1)। এখানে P ঋণের পরিমাণ, r মাসিক সুদের হার (বার্ষিক হার ÷ ১২ ÷ ১০০) এবং n মোট কিস্তির সংখ্যা। যেমন ১ লাখ টাকা ১২% সুদে ১ বছরের জন্য নিলে r = ০.০১, n = ১২, আর মাসিক কিস্তি দাঁড়ায় ৮,৮৮৪.৮৮ টাকা।
ফ্ল্যাট রেট আর ক্রমহ্রাসমান হারের পার্থক্য
কিছু প্রতিষ্ঠান সুদ "ফ্ল্যাট রেটে" বলে। ফ্ল্যাট রেটে পুরো মেয়াদে শুরুর ঋণের ওপরই সুদ ধরা হয়, যদিও প্রতি মাসে আপনি আসল কিছুটা শোধ করছেন। তাই একই সংখ্যার ফ্ল্যাট রেট আসলে ক্রমহ্রাসমান হারের চেয়ে অনেক বেশি খরচের। যেমন ১০% ফ্ল্যাট রেটে ৫ বছরের ঋণ মোটামুটি ১৭-১৮% ক্রমহ্রাসমান হারের সমান। ঋণ নেওয়ার আগে জিজ্ঞেস করুন হারটি কোন পদ্ধতিতে, এবং তুলনা করতে মোট পরিশোধের অঙ্ক দেখুন।
ঋণ নেওয়ার আগে যা মিলিয়ে নেবেন
এই ক্যালকুলেটর শুধু সুদ ও আসলের হিসাব দেখায়। প্রসেসিং ফি, বিমা, আবগারি শুল্ক, আগাম পরিশোধের চার্জ বা দেরিতে কিস্তি দেওয়ার জরিমানা এতে ধরা নেই। সুদের হার ব্যাংক, ঋণের ধরন ও সময়ভেদে বদলায়, তাই ঘরে আগে থেকে লেখা ১২% শুধু একটি উদাহরণ; ব্যাংক যে হার দিচ্ছে সেটাই লিখুন। চূড়ান্ত কিস্তি ও শর্ত জানতে ব্যাংকের লিখিত অফার বা ঋণ চুক্তি দেখুন। সাধারণ নিয়ম হিসেবে মাসিক সব কিস্তি মিলিয়ে আয়ের এক-তৃতীয়াংশের বেশি না হওয়াই নিরাপদ।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
EMI মানে কী?
EMI মানে Equated Monthly Instalment, অর্থাৎ ঋণ শোধের সমান মাসিক কিস্তি। প্রতিটি কিস্তিতে সুদ ও আসলের একটি অংশ থাকে, আর কিস্তির অঙ্ক পুরো মেয়াদে একই থাকে।
৫ লাখ টাকা লোনের মাসিক কিস্তি কত?
সুদের হার ও মেয়াদের ওপর নির্ভর করে। ১২% সুদে ৫ বছরে কিস্তি প্রায় ১১,১২২ টাকা, ৩ বছরে প্রায় ১৬,৬০৭ টাকা। নিজের হার ও মেয়াদ বসিয়ে ওপরের ক্যালকুলেটরে দেখে নিন।
EMI-র সূত্র কী?
EMI = P × r × (1 + r)^n ÷ ((1 + r)^n − 1)। P = ঋণের পরিমাণ, r = মাসিক সুদের হার (বার্ষিক হার ÷ ১২ ÷ ১০০), n = মোট কিস্তির সংখ্যা।
ফ্ল্যাট রেট ও রিডিউসিং রেটের মধ্যে কোনটি সস্তা?
একই সংখ্যার হারে রিডিউসিং (ক্রমহ্রাসমান) রেট সস্তা, কারণ সুদ ধরা হয় শুধু বাকি ঋণের ওপর। ফ্ল্যাট রেটে পুরো মেয়াদে শুরুর ঋণের ওপর সুদ ধরা হয়, তাই প্রকৃত খরচ প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি হতে পারে।
আগে ঋণ শোধ করলে কি সুদ কমে?
সাধারণত হ্যাঁ, কারণ বাকি ঋণ কমলে পরের মাসগুলোর সুদও কমে। তবে অনেক ব্যাংক আগাম পরিশোধে চার্জ নেয়। আপনার ঋণ চুক্তিতে শর্তটি দেখে নিন।
এই হিসাবে কি প্রসেসিং ফি ধরা আছে?
না। প্রসেসিং ফি, বিমা, আবগারি শুল্ক বা অন্য চার্জ এতে ধরা নেই। এগুলো ব্যাংক আলাদা নেয় বা ঋণের সাথে যোগ করে।
ব্যাংক লোনের সুদের হার কত?
হার ব্যাংক, ঋণের ধরন ও সময়ভেদে আলাদা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতির সাথে বদলায়। তাই ঘরে লেখা ১২% শুধু উদাহরণ। আপনার ব্যাংকের দেওয়া হারটি বসান।