ফ্রি সিভি মেকার: বাংলা ও ইংরেজিতে সিভি বানান
ঘরগুলোতে সিভির ভাষাতেই লিখুন। আপনার লেখা সব তথ্য শুধু এই ব্রাউজারে জমা থাকে, কোথাও আপলোড হয় না; পরে এসে আবার বদলাতে পারবেন।
নাম ও যোগাযোগ
ছবির মাঝখান থেকে পাসপোর্ট মাপে কেটে নেওয়া হয়।
দুই-তিন লাইনে লিখুন আপনি কেমন কাজ চান এবং প্রতিষ্ঠানকে কী দিতে পারবেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
সবশেষ পাস করা পরীক্ষা আগে লিখুন। ↑ ↓ বোতাম দিয়ে ক্রম বদলানো যায়।
কাজের অভিজ্ঞতা (ঐচ্ছিক)
নতুনদের জন্য ইন্টার্নশিপ, টিউশনি বা স্বেচ্ছাসেবী কাজও লেখা যায়।
প্রশিক্ষণ ও সনদ (ঐচ্ছিক)
দক্ষতা ও ভাষা
কমা দিয়ে বা আলাদা লাইনে লিখুন।
প্রতি লাইনে একটি ভাষা।
ব্যক্তিগত তথ্য (ঐচ্ছিক)
যে ঘর ফাঁকা রাখবেন তা সিভিতে আসবে না। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর না দেওয়াই নিরাপদ, চাকরিদাতা চাইলে তখন দিন।
রেফারেন্স (ঐচ্ছিক)
সাধারণত দুজন: একজন শিক্ষক বা আগের কর্মকর্তা। আগে তাঁদের অনুমতি নিন।
প্রিন্টের পাতায় প্রিন্টারের জায়গায় Save as PDF বেছে নিলে PDF ফাইল নামবে। কাগজের মাপ A4 রাখুন; মডার্ন ডিজাইনের রং আসতে Background graphics চালু করুন।
সিভির নমুনা
ফ্রি সিভি বানাতে নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা লিখুন, বাংলা বা ইংরেজি এবং ডিজাইন বেছে নিন, তারপর এক বোতামে PDF নামান। কোনো অ্যাকাউন্ট লাগে না, তথ্য কোথাও আপলোড হয় না।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- ১ ওপরে সিভির ভাষা (English বা বাংলা) আর ডিজাইন বেছে নিন। কেমন দেখায় দেখতে চাইলে "নমুনা দিয়ে শুরু করুন" চাপুন।
- ২ নাম, মোবাইল, ইমেইল ও ঠিকানা লিখুন; চাইলে ছবি দিন।
- ৩ শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখুন, সবশেষ পরীক্ষা আগে। অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও রেফারেন্স থাকলে সেগুলোও লিখুন।
- ৪ নিচের নমুনায় সিভিটি মিলিয়ে দেখুন। যে ঘর ফাঁকা রাখবেন তা সিভিতে আসবে না।
- ৫ "PDF ডাউনলোড / প্রিন্ট" বোতামে চাপ দিন এবং প্রিন্টারের জায়গায় "Save as PDF" বেছে নিন।
চাকরির সিভিতে কী কী থাকা দরকার
বাংলাদেশে বেশিরভাগ চাকরিদাতা এক বা দুই পাতার, পরিষ্কার সাজানো সিভি পছন্দ করেন। সাধারণত এই অংশগুলো থাকে:
- নাম ও যোগাযোগ: পুরো নাম, সচল মোবাইল নম্বর, ইমেইল ও ঠিকানা। সাম্প্রতিক, পরিষ্কার একটি ছবি দিলে ভালো।
- ক্যারিয়ারের লক্ষ্য: দুই-তিন লাইনে আপনি কোন ধরনের কাজ চান। প্রতিটি চাকরির জন্য একটু মিলিয়ে লিখলে আরও ভালো হয়।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর: পরীক্ষা, বিভাগ, প্রতিষ্ঠান, বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়, পাসের সাল ও জিপিএ বা সিজিপিএ।
- অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ: পদবি, প্রতিষ্ঠান, সময়কাল এবং কী কাজ করেছেন। নতুন হলে ইন্টার্নশিপ, প্রশিক্ষণ বা স্বেচ্ছাসেবী কাজ লিখুন।
- দক্ষতা ও ভাষা: কম্পিউটার, টাইপিং, ড্রাইভিং বা কারিগরি দক্ষতা এবং কোন ভাষা কতটা জানেন।
- ব্যক্তিগত তথ্য ও রেফারেন্স: অনেক প্রতিষ্ঠান পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ ও দুজন রেফারেন্স চায়।
ভালো সিভির কয়েকটি নিয়ম
- সবশেষ ডিগ্রি ও সবশেষ চাকরি আগে লিখুন।
- বানান ও ফোন নম্বর দুবার মিলিয়ে নিন; ভুল নম্বরে ইন্টারভিউয়ের ডাক হারিয়ে যায়।
- বিজ্ঞপ্তিতে যে ভাষায় সিভি চাওয়া হয়েছে সে ভাষায় দিন; উল্লেখ না থাকলে ইংরেজি সিভিই বেশি চলে।
- ফাইলের নাম রাখুন নিজের নামে, যেমন "Rakibul-Hasan-CV.pdf"।
- অনলাইন আবেদনের ছবি ও স্বাক্ষর নির্দিষ্ট মাপে লাগলে ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজ টুল ব্যবহার করুন।
প্রথম চাকরির সিভি
অভিজ্ঞতা না থাকলে শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার অংশে জোর দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপ, টিউশনি, ক্লাব বা স্বেচ্ছাসেবী কাজ "কাজের অভিজ্ঞতা" অংশে লেখা যায়; এগুলো দেখায় আপনি দায়িত্ব নিতে পারেন। ক্যারিয়ারের লক্ষ্যে লিখুন কোন ধরনের কাজ শিখতে ও করতে চান। সরকারি চাকরির অনলাইন আবেদনে সাধারণত সিভি লাগে না, ফর্মেই তথ্য দিতে হয়; তবে মৌখিক পরীক্ষায় একটি ছাপানো সিভি সাথে রাখা ভালো।
গোপনীয়তা
সিভির সব লেখা, ছবি ও PDF তৈরির কাজ আপনার ব্রাউজারেই হয়; কিছুই আমাদের সার্ভারে পাঠানো হয় না। পরের বার আবার লিখতে না হয় সে জন্য সিভিটি আপনার নিজের ব্রাউজারে (localStorage) জমা থাকে। অন্যের ফোন বা কম্পিউটারে সিভি বানালে কাজ শেষে "সব তথ্য মুছুন" বোতামে চাপ দিন।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
এই সিভি মেকার কি সত্যিই ফ্রি?
হ্যাঁ, পুরোপুরি ফ্রি। কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় না, সিভিতে আমাদের কোনো জলছাপ বা বিজ্ঞাপনও বসে না।
মোবাইল থেকে সিভির PDF কীভাবে নামাব?
"PDF ডাউনলোড / প্রিন্ট" বোতামে চাপ দিলে প্রিন্টের পাতা খুলবে। প্রিন্টারের তালিকা থেকে "Save as PDF" বেছে নিয়ে ডাউনলোড চিহ্নে চাপ দিন। ফাইলটি ফোনের Downloads ফোল্ডারে জমা হবে।
আমার তথ্য কি কোথাও জমা থাকে?
শুধু আপনার নিজের ব্রাউজারে, যাতে পরে এসে সিভি আবার বদলাতে পারেন। আমাদের সার্ভারে কিছুই পাঠানো হয় না। অন্যের ডিভাইসে বানালে কাজ শেষে "সব তথ্য মুছুন" চাপুন।
সিভি বাংলায় বানাব না ইংরেজিতে?
বিজ্ঞপ্তিতে যে ভাষা চাওয়া হয়েছে সেটিতে দিন। কিছু বলা না থাকলে বেশিরভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি সিভিই চলে। এই টুলে ভাষা বদলালে সিভির সব শিরোনাম বদলে যায়; আপনার লেখা অংশ সেই ভাষায় লিখুন।
সিভি, বায়োডাটা আর রেজ্যুমের পার্থক্য কী?
বাংলাদেশে চাকরির আবেদনে তিনটি শব্দই প্রায় একই অর্থে চলে। সাধারণভাবে বায়োডাটায় ব্যক্তিগত তথ্য বেশি থাকে, রেজ্যুমে ছোট ও কাজ-কেন্দ্রিক, আর সিভিতে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার পূর্ণ বিবরণ থাকে। এই টুল দিয়ে তিন রকমই বানানো যায়।
সিভিতে ছবি দেওয়া কি জরুরি?
বাংলাদেশে বেশিরভাগ চাকরিদাতা সিভিতে ছবি আশা করেন। সাম্প্রতিক, পরিষ্কার পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিন। টুলটি ছবির মাঝখান থেকে পাসপোর্ট মাপে কেটে নেয়।
সিভি কয় পাতার হওয়া উচিত?
নতুনদের জন্য এক পাতা, অভিজ্ঞদের জন্য দুই পাতা যথেষ্ট। লেখা বেশি হলে PDF নিজে থেকেই পরের পাতায় চলে যায়।