কুরিয়ার ফ্রড চেকার
নতুন সেবা: তথ্যভান্ডার এখনো তৈরি হচ্ছে, তাই আপাতত বেশিরভাগ নম্বরে "কোনো তথ্য নেই" দেখাবে।
শুধু ডেলিভারি ও রিটার্নের সংখ্যা দেখানো হয়। কাস্টমারের নাম, ঠিকানা বা অর্ডারের তথ্য দেখানো বা সংরক্ষণ করা হয় না।
কুরিয়ার ফ্রড চেকারে কাস্টমারের মোবাইল নম্বর দিলে দেখা যায় ওই নম্বরে আগে কতটি পার্সেল ডেলিভারি হয়েছে আর কতটি ফেরত এসেছে। রিটার্নের সংখ্যা বেশি হলে অর্ডার পাঠানোর আগে ফোনে নিশ্চিত হওয়া বা ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম নেওয়া ভালো।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- ১ কাস্টমার যে মোবাইল নম্বর দিয়ে অর্ডার করেছেন সেটি ঘরে লিখুন, যেমন 01712345678।
- ২ "চেক করুন" বোতামে চাপ দিন।
- ৩ ফলাফলে দেখুন এই নম্বরে মোট কতটি পার্সেল ডেলিভারি হয়েছে এবং কতটি ফেরত এসেছে।
- ৪ রিটার্ন বেশি হলে অর্ডার পাঠানোর আগে কাস্টমারকে ফোন করে নিশ্চিত হোন অথবা ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম নিন।
ভুয়া অর্ডারে বিক্রেতার কী ক্ষতি হয়
ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য বিক্রি করলে একটি বড় ঝুঁকি হলো পার্সেল ফেরত আসা। কাস্টমার অর্ডার দিয়ে ফোন ধরেন না, ডেলিভারিম্যান গেলে নিতে অস্বীকার করেন, অথবা ইচ্ছা করেই ভুল ঠিকানা দেন। প্রতিটি ফেরত পার্সেলে বিক্রেতাকে যাওয়া-আসার ডেলিভারি চার্জ দিতে হয়, প্যাকেজিংয়ের খরচ নষ্ট হয়, পণ্য কয়েক দিন আটকে থাকে এবং অনেক সময় নষ্ট হয়ে ফেরে। যাদের লাভ কম, তাদের কয়েকটি রিটার্নেই এক দিনের লাভ শেষ হয়ে যায়।
সব রিটার্ন অবশ্য প্রতারণা নয়। কাস্টমার বাসায় না থাকা, পণ্য পছন্দ না হওয়া বা ডেলিভারিতে দেরি হওয়াও কারণ হতে পারে। কিন্তু কিছু নম্বর থেকে বারবার অর্ডার এসে বারবার ফেরত যায়। সেই ধরনের নম্বর আগে থেকে চিনে নেওয়াই এই টুলের উদ্দেশ্য।
ফলাফল দেখে কী সিদ্ধান্ত নেবেন
- বেশিরভাগ ডেলিভারি সফল: স্বাভাবিকভাবে অর্ডার পাঠাতে পারেন।
- ডেলিভারি ও রিটার্ন প্রায় সমান: পাঠানোর আগে ফোন করে অর্ডার নিশ্চিত করুন এবং ঠিকানা মিলিয়ে নিন।
- রিটার্ন বেশি: ডেলিভারি চার্জ বা আংশিক মূল্য বিকাশ/নগদে অগ্রিম নিন। রাজি না হলে অর্ডার না পাঠানোই নিরাপদ।
- কোনো তথ্য নেই: নতুন কাস্টমার হিসেবে ধরুন। দামি পণ্য হলে ফোনে কথা বলে নিন।
মনে রাখবেন, এই সংখ্যা একটি সহায়ক তথ্য মাত্র, চূড়ান্ত রায় নয়। একই নম্বর পরিবারের একাধিক সদস্য ব্যবহার করতে পারেন, আবার পুরোনো নম্বর নতুন কারও হাতে যেতে পারে। শুধু এই তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে প্রতারক বলা বা তার নম্বর প্রকাশ্যে ছড়ানো ঠিক নয়।
রিটার্ন কমানোর আরও কিছু উপায়
- অর্ডার পাওয়ার পর কাস্টমারকে ফোন বা মেসেজে নাম, ঠিকানা, পণ্য ও মোট টাকা আবার জানিয়ে নিশ্চিত করুন।
- পণ্যের আসল ছবি, মাপ ও রঙ স্পষ্ট করে দিন, যাতে হাতে পেয়ে কাস্টমার অবাক না হন।
- ডেলিভারিতে কত দিন লাগবে আগেই বলে দিন এবং দেরি হলে জানান।
- পার্সেল পাঠানোর দিন কাস্টমারকে ট্র্যাকিং নম্বর পাঠান এবং ফোন খোলা রাখতে বলুন।
- ঢাকার বাইরে বা দামি পণ্যের ক্ষেত্রে ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম নেওয়ার নিয়ম চালু করুন।
গোপনীয়তা যেভাবে রক্ষা করা হয়
এই সেবায় কারও মোবাইল নম্বর সরাসরি জমা রাখা হয় না। নম্বরটিকে একটি গোপন চাবি দিয়ে একমুখী কোডে রূপান্তর করে শুধু সেই কোড এবং ডেলিভারির ফলাফল রাখা হয়। ফলে তথ্যভান্ডার দেখে কারও নম্বর, নাম বা ঠিকানা বের করা সম্ভব নয়। আপনি যে নম্বর চেক করেন তা ঠিকানার লিংকে যায় না এবং লগেও থাকে না। একসাথে হাজার হাজার নম্বর যাচাই ঠেকাতে চেক করার সংখ্যায় সীমা দেওয়া আছে। বিক্রির পর ক্রেতাকে মেমো দিতে চাইলে আমাদের ফ্রি ইনভয়েস মেকার ব্যবহার করতে পারেন।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
কুরিয়ার ফ্রড চেক কী?
এটি অনলাইন বিক্রেতাদের জন্য একটি যাচাই ব্যবস্থা। কাস্টমারের মোবাইল নম্বর দিলে দেখা যায় ওই নম্বরের আগের অর্ডারগুলোর কতটি ডেলিভারি নেওয়া হয়েছে আর কতটি ফেরত গেছে। এতে ভুয়া অর্ডার আগেভাগে ধরা সহজ হয়।
এখানে কোন তথ্য দেখানো হয়?
শুধু দুটি সংখ্যা: কতটি পার্সেল ডেলিভারি হয়েছে আর কতটি ফেরত এসেছে। কাস্টমারের নাম, ঠিকানা, কী কিনেছেন বা কোন দোকান থেকে কিনেছেন, এসব কিছুই দেখানো হয় না এবং আমাদের কাছে জমাও থাকে না।
"কোনো তথ্য নেই" দেখালে কী বুঝব?
এর মানে ওই নম্বরের কোনো রেকর্ড আমাদের কাছে নেই। এটি ভালো বা খারাপ কাস্টমারের প্রমাণ নয়; নতুন কাস্টমার বা আমাদের তথ্যের বাইরের কাস্টমারের ক্ষেত্রে এমন হয়। নিজের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিন।
তথ্য কোথা থেকে আসে?
যেসব বিক্রেতা ও সফটওয়্যার স্বেচ্ছায় তাদের ডেলিভারির ফলাফল (ডেলিভারি হয়েছে বা ফেরত এসেছে) আমাদের সাথে ভাগ করে, সেখান থেকে। কুরিয়ার কোম্পানির প্যানেলে লগইন করে বা অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য সংগ্রহ করা হয় না।
মোবাইল নম্বর কি আপনাদের কাছে জমা থাকে?
না। নম্বরটিকে একটি গোপন চাবি দিয়ে একমুখী কোডে বদলে শুধু সেই কোড রাখা হয়, যা থেকে নম্বর ফিরে পাওয়া যায় না। আপনি যে নম্বর চেক করেন তা লগেও রাখা হয় না।
দিনে কতবার চেক করা যায়?
অপব্যবহার ঠেকাতে সীমা আছে: প্রতি মিনিটে ৬ বার এবং দিনে ৬০ বার। একজন বিক্রেতার দৈনন্দিন কাজের জন্য এটি যথেষ্ট।
আমার নম্বরের রেকর্ড ভুল মনে হলে কী করব?
পাতার নিচের WhatsApp নম্বরে জানান। যাচাই করে ভুল রেকর্ড সংশোধন বা মুছে দেওয়া হবে।